Thursday, 10 March 2016

রাজিবপুর রৌমারীর সড়কের বেহাল অবস্থা, দেখার কেউ নেই!


রাজিবপুর রৌমারীর সড়কের বেহাল অবস্থা

রৌমারীর আসরাফুজ্জামান নামের এক ভদ্রলোক ঢাকায় বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। অনেক দিন পর সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে শীতের পিঠার স্বাদ নিতে তিনি বউ-বাচ্চাসহ ঢাকার মহাখালী থেকে বাসে রওনা দেন গ্রামের বাড়িতে। তাদের বহনকারি বাস জামালপুর জেলার অংশে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বাসের ঝাঁকুনি শুরু হয়। আর কুড়িগ্রাম অংশে আসামাত্রই ঝাঁকুনির মাত্রা বেড়ে ঢেউয়ের মতো ধুলতে থাকে। কোনো অবস্থাতেই বাসে রাখা গেল না বউ-বাচ্চাদের। শেষে রৌমারী পৌঁছানোর আগেই রাজীবপুরের কদমতলি নামক স্থানে বউ-বাচ্চাদের নামিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়িতে যায় তারা। রৌমারী-জামালপুর সড়কের দুর্ভোগের বর্ণানা এভাবেই দিলেন আসরাফুজ্জামান। কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন অনুন্নত অবহেলিত উপজেলা রৌমারী ও রাজীবপুর। এর পূর্ব-উত্তরে ভারত আর পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদী। এ অঞ্চলের মানুষ সড়ক যোগাযোগ রক্ষা করে দক্ষিণে জামামলপুর, শেরপুর হয়ে রাজধানীতে। রৌমারী থেকে রাজীবপুর হয়ে রাজধানীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠে ১৯৯৮ সালের দিকে। কিন্তু সড়কের দুরাবস্থার কারণে এলাকার মানুষের যাতায়াত চরম দুর্ভোগে। যা গত ১৭ বছরেও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।   ওই ভঙ্গুর যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ রৌমারী হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে। তাছাড়া রৌমারী সীমান্তে করিগর ও স্থলবন্দর থাকার কারণে সারা দেশ থেকে পণ্যবাহী ভারি যান যাতায়াত করে। ওইসব ভারি যান চলাচলের জন্য উপযোগী নয় এই সড়ক। রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা থেকে জামালপুর সংযোগ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক কুড়িগ্রাম সওজরে অধিনে। অপরদিকে কুড়িগ্রামের শেষ সীমানা থেকে জামালপুর বা শেরপুর পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক জামালপুর সওজের আওতায়। এর ফলে কুড়িগ্রাম অংশের সড়ক সংস্কার হলে জামালপুর অংশের সংস্কার হয় না। বর্তমানে কুড়িগ্রাম অংশের সড়কের করুন চিত্র দেখা গেছে। একটা বাস অথবা ট্রাক আরেকটা গাড়িকে সাইট দিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা বা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে প্রায়ই বাস-ট্রাক গর্তে আটকে, নয়তো উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। যদি একবার ট্রাক উল্টে তাহলে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সকল প্রকার যান চলাচল এই সড়কে বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, জোরাতালি আর খানাখন্দক। সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে নৌকা যেমন হেলে দোলে তেমনি যানবাহনগুলোর অবস্থা দেখা গেছে। সড়কের বেহাল অবস্থায় সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিসিআইসি অনুমোদিত রাজীবপুরের সার ডিলার সিরাজদ্দৌলা বলেন, এ রাস্তা এতো খারাপ তা আগে দেখি নাই। তারাকান্দা মিল থেকে সার নিয়ে যে ট্রাক একবার আসে দ্বিতীয়বার ওই ট্রাককে কোনো ভাবেই আনা যায় না। অপ্রশস্থ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার পিচ, খোয়া উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আনোয়ার হোসেন নামের এক অটোচালক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমগর আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী নাই, তাই আমগর আস্তাও ভালো অয়  না। রৌমরীর রিফাত পরিবহনের ড্রাইভার আসলাম আলী (৩৮) বলেন, জামালপুর থেকে কুড়িগ্রামের সীমানায় প্রবেশ করা মানে মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হয়। রাস্তা এতই অপ্রস্থ যে গাড়ি চালানোর সময় মনে হয় এই বুঝি গাড়িটা গর্তে পড়ে গেল।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-৪ আসন, জাতীয় পার্টি জেপি) রুহুল আমিন বলেন, এ সড়কের কাহিল অবস্থার কথা জাতীয় সংসদে উঠানো হয়েছে। যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।  এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান জানান, রৌমারী রাজীবপুর ওই সড়কের অবস্থা খুবই খারাব এটা আমিও জানি। চলতি অর্থবছরে ওই সড়কের সাড়ে ৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শুরু হবে দ্রুত। বাকী ২২ কিলোমিটার রাস্তার প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রাণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।