Tuesday, 5 April 2016

ইউপি নির্বাচন স্থগিতাদেশে রাজীবপুরে বিক্ষোভ, সমাবেশ অব্যাহত ।

ইউপি নির্বাচন স্থগিতাদেশে রাজীবপুরে বিক্ষোভ, সমাবেশ অব্যাহত

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরের ৩ ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচন স্থগিতাদেশে এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবারের মতো আজ মঙ্গলবারও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের দাবিতে এলাকাবাসি ওই বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার রাজীবপুর শহরে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে থানা মোড় চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া, কামরুল আলম বাদল, মেম্বার প্রার্থী, নুর আলম ও নাগরিক কমিটির সদস্য মুরাদ জং। একই সময়ে উত্তর কোদালকাটি ও বালিয়ামারী বাজারেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নির্বাচনের প্রার্থীর লোকজন। এর আগের দিন সোমবারও রাজীবপুরে, নয়াচর বাজারে ও কোদালকাটি বাজারে বিক্ষোভ, সমাবেশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, আগামি ৩১ মার্চ উপজেলার তিন ইউনিয়নের সাধরণ নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্ট। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় পৃথক ৩টি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ২১ নম্বর বেঞ্চ স্থগিতাদেশ দেয়। এর আগে গত ২ মার্চ তিন ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করে। প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রমও সম্পন্ন করে প্রশাসন। এতে তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১২জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৫১জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৯৮জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।



ভালো নেই তারামন বিবি ।

ভালো নেই তারামন বিবি 
মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট আর কাশি বেড়ে গেছে। তার ওপর যোগ হয়েছে মাথা ও পিঠ ব্যথা। বলতে গেলে তিনি এখন অচল। নিজে নিজে হাঁটাচলা করতে পারছেন না গত সাত দিন ধরে। বিছানার পাশেই অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। যখন শ্বাস নিতে পারেন না তখন অক্সিজেনের সহযোগিতা নিচ্ছেন। দিনরাত অন্তত ১০ বার করে অক্সিজেনের সহযোগিতা নিচ্ছে হচ্ছে তাঁকে। আজ সোমবার বাড়িতে গিয়ে তারামন বিবি ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

তারামন বিবি বলেন, "মাঝে মাঝে মনে হয় আমার সময় শেষ হয়ে আসছে। শরীরের যা অবস্থা। শ্বাস নিতে পারি না। যখন কাশি ওঠে মনে হয় দুনিয়াত আর নেই আমি। মাথা ব্যথা করে। সারা পিঠ যেন জ্বলে। উঠে দাঁড়াতে পারলেও হাঁটতে পারি না। গত ক'দিন থেকে খুবই কষ্টের মধ্যে বেঁচে আছি। তিনবেলা ওষুধ খাওয়ার পরও অসুখের কোনো উন্নতি দেখছি না।"

তিনি বলেন, "রংপুর সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) কর্তৃপক্ষকে অসুখের কথা জানানো হয়েছে। তাঁরা আমাকে যেতে বলছেন। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে রংপুরে যাওয়াটাই আমার কষ্ট। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো নয়। এর আগে পুরো জানুয়ারি মাস ওই হাসপাতালে ছিলাম। কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলাম, তারপর ৩১ জানুয়ারি বাড়ি আসছি। গত সাত দিন থেকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট আর কাশি বেড়ে গেছে যা সহ্য করতে পারছি না।"

জানা গেছে, অসুস্থ তারামন বিবিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন ও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাকরা। হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, "বর্তমানে তাঁর শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশিটা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি। হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার উনার বাড়িতে দিয়েছি। যখন শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে তখন অক্সিজেনের সহযোগিতা নেবেন। তা ছাড়া ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছুটে যাই তাঁর বাড়িতে। সব মিলে তাঁর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।"

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে বসবাস করেন তারামন বিবি। তাঁর স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন, "রাজীবপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিদিন একবার করে বাড়িতে এসে চিকিৎসা প্রদান করছেন। বর্তমানে তাঁর শরীরের যে অবস্থা তা এর আগে হয়নি। দিনরাত বিছানায় শুয়ে বসে অবস্থান করছে। বিছানা থেকে তাঁকে ধরে উঠানামা করাতে হচ্ছে।"

তারামন বিবি হাসপাতালে ভর্তি ।

তারামন বিবি হাসপাতালে ভর্তি 

বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।

এর আগে তারামন বিবি পুরো জানুয়ারি মাস রংপুর সিএমএইচ (সেনা ক্যান্টমেন্ট হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারি রংপুর থেকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি। বাড়িতে এক সাপ্তাহ কিছুটা সুস্থ থাকলেও হঠাৎ করে অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ সোমবার তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁর শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাঁশিটা অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার তাঁর বাড়িতে দেওয়া হয়েছিল যাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অক্সিজেনের সহযোগিতা নিতে পারেন তিনি।

রাজীবপুরে জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে ।


কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় যোগদানকৃত ওইসব নেতাকর্মীদের। যোগদান উপলক্ষে উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশাল এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।


মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সালাম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যোগদান অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী সরকার, জাতীয় পার্টি নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ও দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।


আওয়ামী লীগে নতুনদের বরণ শেষে বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম ওরফে মঞ্জু মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি জাফর আলী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাই সরকার, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা আজিম উদ্দিন, যোগদানকৃদের মধ্যে আব্দুল বারী সরকার, আব্দুল মান্নানসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

রৌমারী ও রাজীবপুরে ওপেন হাউজ ডে ।

রৌমারী ও রাজীবপুরে ওপেন হাউজ ডে

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় পৃথকভাবে কমিউনিটি পুলিশিং সভা ও ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে রৌমারী থানা পুলিশ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থাকেন কুড়িগ্রাম এএসপি (বি-সার্কেল) মনিরুজ্জামান। থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউজ ডে-তে এলাকাবাসী ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন



'পুলিশ জনগণের সেবক ও বিপদের বন্ধু'- এ বিষয়টি আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা পুলিশিং কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক শফি খান, সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বাবু, এএসপি মনিরুজ্জামান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, উপজেলা আহ্বায়ক সামিউল ইসলাম জীবন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকির হোসেন, শহীদুল ইসলাম সালু, হারুন-অর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের, ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক প্রমুখ।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে রাজীবপুর থানা পুলিশ হলরুমে একই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ে স্থানীয়রা মতামত প্রদান করেন। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এলাকাবাসী।


অবশেষে ৬০ হাজার টাকায় মুক্ত হলো শিশু রুমন ।

অবশেষে ৬০ হাজার টাকায় মুক্ত হলো শিশু রুমন

অবশেষে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে চার দিন জিম্মি থাকার পর পাওনাদারের কাছ থেকে মুক্ত করা হয়েছে ছয় বছর বয়সী রুমন মিয়াকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মুক্তি দেওয়ার পর শিশুটিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফেরেন তার বাবা-মা। এর আগে পাওনা সাড়ে ১০ হাজার টাকার জন্য কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বেপারীপাড়া গ্রাম থেকে কৌশলে শিশুটিকে তুলে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া গ্রামের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে পাওনাদার মুন্নাফ আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগে জানা গেছে, শিশুটিকে জিম্মি করে সাড়ে ১০ হাজার টাকার সঙ্গে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে নির্যাতিত পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তাছাড়া শিশুকে জিম্মি করে অর্থ আদায় সংক্রান্ত সংবাদ গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইনসহ প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত হয়।
কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বেপারীপাড়া গ্রামের আবু সায়েদ আলীর ছেলে রুমন মিয়াকে গত সোমবার সকালে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চার দিন ধরে শিশুটিকে জিম্মি করে ওই অর্থ আদায় করে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির বাবার কাছ থেকে দেড় শ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। পাওনাদারের চাহিদা মতো টাকা পরিশোধ করে শিশুটিকে উদ্ধার করার পর আজ শুক্রবার আবু সায়েদ আলী অভিযুক্ত মুন্নাফ আলীকে আসামি করে রাজীবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
নিরপরাধ শিশুটিকে তুলে জিম্মি করে রাখা পাওনাদার মুন্নাফ আলীর বাড়ি গাইবান্দা জেলার ফুলছড়ি থানার অধীনে দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া গ্রামে। এর আগে মুন্নাফ আলী আবু সায়েদ আলীর সঙ্গে সীমান্ত হাট পণ্যসামগ্রী আদান প্রদানের ব্যবসা করতেন। আর ওই ব্যবসার সাড়ে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল আবু সায়েদ আলীর কাছে। যা গত ছয় মাসেও পরিশোধ করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
রাজীবপুর থানার ওসি ক্রিথিস কুমার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ওই ঘটনায় তদন্ত করা হয়েছে। গাইবাদ্ধার ওই মুন্নাফ আলীর বিষয়ে জানার জন্য এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা মোকদ্দমা রয়েছে কিনা এমন তথ্যের সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সেই শামীম, এই শামীম ।

সেই শামীম, এই শামীম 


রেজাউল করিম শামীম হাটে-ঘাটে, রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। বড় বড় চুল, দাড়ি, গোঁফ। এসবে ধুলা-ময়লা ভরা। ক্লিষ্ট মুখমণ্ডল। পরনে নোংরা ছিন্ন বস্ত্র। মানসিক ভারসাম্যহীন। মাদকাসক্তি মানুষের জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এর জ্বলন্ত প্রমাণ রেজাউল করিম শামীমের (৩৪) এই অবস্থা।

তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে। ওই গ্রামের সাইদুর জামান ও শিউলি বেগম দম্পতির ছেলে তিনি। আজকের শামীমকে দেখে কেউ বিশ্বাস করবেন না বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে এবং রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। শুধু তাই না, দুটো পরীক্ষায়ই জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। কিন্তু, এরপর আর তাঁর পড়াশোনা এগোয়নি।

চাকরির কারণে তাঁর বাবা ছিলেন কুড়িগ্রামে ও মা ইউপি সদস্যের কারণে প্রায় সময় বাড়িতে থাকতেন না। শামীম একা বাড়িতে থাকতেন। তিনি যখন নবম শ্রেণিতে ওঠেন তখন একদিন বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান করেন। আস্তে আস্তে গাঁজা, ফেনসিডিল নেশায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেখান থেকে ফিরে আসতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করা হয়েছে। কিন্তু ভালো হয়ে ওঠেনি।

১৯৯৭ সালের কথা। কুড়িগ্রামের রৌমারী সিজি জামান হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে শামীম। হঠাৎ করে একদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়নি মেধাবী ছাত্রটা। কেন্দ্রজুড়ে শিক্ষকদের তৎপরতা। পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, শামীম কোথায়? প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকরা ছুটে গেলেন তার বাড়িতে। গিয়ে দেখেন সকাল ১১টা পার হচ্ছে অথচ শামীম ঘুমাচ্ছে। সেদিনের দৃশ্য দেখে চোখে জল ফেলেছেন প্রধান শিক্ষক। জল এসেছে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও। ওই বছর শামীমের আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি। এসব তথ্য জানান ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক হযরত আলী।

উপজেলার হাটবাজার, জনবহুল এলাকা ও রাস্তায় দেখা মেলে মেধাবী সেই শামীমের করুণ ছবি। বাড়ি ছেড়ে খাওয়া-ঘুমানো খোলা আকাশের নিচে। তবে সে এখনো প্রমিত ভাষায় কথা বলেন, সঙ্গে চলে চা, সিগারেট। আবার কারো কথা শোনেন না তিনি। গত কয়দিনে তাঁর অবস্থা আরো খারাপ হয়। রেজাউল করিমের মামা ইউপি সদস্য শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘তাকে কোনোভাবে ঘরে রাখা যায় না। অনেক চিকিৎসার পর যখন সুস্থ হয়নি তখন পরিবারের লোকজন তার আশা ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে রাস্তাঘাটে থাকা শুরু করে।’

শামীমের করুণ অবস্থা দেখে স্থির থাকতে পারেননি এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের বন্ধুরা। তাঁর বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একমত হয়ে অর্থ সংগ্রহের পর গত ২৪ ডিসেম্বর তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঠিকানা ক্লিনিকে চিকিৎসা চলছে তাঁর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এতে প্রতি মাসে ব্যয় হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো।

ফেসবুক ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি হারুন-অর রশীদ প্রথমে উদ্যোগ নেন। তাঁর পকেটের টাকায় ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় তাঁদের বন্ধু ডা. জুম্মন, দৈনিক সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকন, গাজীপুরের টঙ্গীর একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা মুছা মিয়া, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের রৌমারী শাখার কর্মকর্তা মামুন খালিদ মিরনসহ অনেকে অর্থ দিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছেন। এ খবর পেয়ে তাঁর আরো অনেক বন্ধু সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এন্ডোক্রাইন ও মেটাবলিক রোগ গবেষণা ও পুনর্বাসন সংস্থার (বারডেম) ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডা. জুম্মন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শামীমের মানসিক সমস্যা রয়েছে। আগে কিভাবে চিকিৎসা হয়েছে জানি না। এবার আমরা আশাবাদী, পুরোপুলি ভালো হয়ে যাবে।’

রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোমদেল হক বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে মেধাবী ছেলেটার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আগেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করার দরকার ছিল। দেরিতে হলেও তার বন্ধুরা যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে, তা খুবই প্রশংসনীয়। তাকে সুস্থ করে তুলতে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি। একই সঙ্গে যে মাদকের কারণে একটা মেধাবী ছাত্রের অপমৃত্যু ঘটল সেই মাদক বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছি।’


রাজীবপুরে কীটনাশক পানে কৃষকের মৃত্যু ।

রাজীবপুরে কীটনাশক পানে কৃষকের মৃত্যু ।


কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে কীটনাশক পান করে মতিউর রহমান (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল রবিবার রাতে বাড়ির লোকজনের অজান্তে ওই কৃষক কীটনাশক পান করেন। আজ সোমবার সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। নিজের স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

মতিউর রহমান উপজেলার বালিয়ামারী নয়াপাড়া গ্রামের মৃত রহম আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। রাজীবপুর থানার এসআই আব্দুল মতিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে পাওনা টাকা আদায়!

চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে পাওনা টাকা আদায়!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা চত্ত্বরে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে একই পরিষদের মেম্বাররা তাদের পাওনা টাকা আদায় করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা পরিষদ ভবনের সমানে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে মেম্বারদের সঙ্গে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বাকবিতণ্ডা এমনকী ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি উত্তেজনার সৃষ্টি হলে অন্য দুই পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে সমঝোতা হয়। তবে মেম্বারদের পাওনা টাকা ওই সময়ে পরিশোধ করতে বাধ্য হয় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু। আজ বৃহষ্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ওই ঘটনা ঘটে উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাঝে।

রাজীবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুর-ই শাহী ফুল ও কোদালকাটি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত বিরোধে জড়িয়ে পড়া মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে বৈঠক করা হয়। এতে মেম্বারদের নামের প্রকল্পের টাকা ব্যাংক উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু। বৈঠকে উত্তেজিত পাওনাদার মেম্বারদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয়। এতে প্রতি মেম্বারের ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ৭০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করে রক্ষা পান চেয়ারম্যান। পরে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাঝে বিরোধের মিমাংসাও করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা ১২ সদস্যের অভিযোগে জানা গেছে, চলতি (২০১৫-২০১৬) অর্থ বছরে ইউনিয়ন পরিষদের (স্থানীয় সরকার) অধিনে এলজিএসপি-১ (লোকাল গর্ভন্যান্স)’তে প্রায় ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই কর্মসূচীর আওতায় ১২জন মেম্বার ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রতিটি প্রকল্প ৮০ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করে মেম্বাররা বরাদ্দকৃৃত টাকার বিল করার জন্য চেয়ারম্যান ও পরিষদের সচিবকে আবেদন করে। কিন্তু তারা নানা তালবাহানা শুরু করে। মেম্বারদের নামের প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ চেয়ারম্যান সচিব ৭দিন আগে ব্যাংক থেকে উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে মেম্বাররা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। আর ওই টাকার জন্যই চেয়ারম্যানকে আটকে রাখে মেম্বাররা।

মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আসাদ মিয়া, আব্দুল হক, মাইদুল ইসলাম অভিযাগ করেন, চেয়ারম্যান আমাদের অভিভাবক। আর সেই চেয়ারম্যানই জালিয়াতি কসরে আমাদের নামের প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করে। আমরা সবাই বিক্ষুদ্ধ হয়ে যখন তাকে ঘিরে ধরে টাকা চাইলাম তখনও টালবাহানা করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান টাকা দিতে বাধ্য হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘মেম্বাররা না বুঝে হাঙ্গামা করেছে। তাদের নামের প্রকল্পের টাকা আমি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছি এটা সত্য। কিন্তু আমি তো তাদের টাকা মেরে খাইনি। আমি টাকা তাদেরকে পরে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা মানেননি।’


ভবন ‘খাদক’ ইউপি চেয়ারম্যান!

ভবন ‘খাদক’ ইউপি চেয়ারম্যান!
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে একটি একতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভেঙ্গে ইট, রট ও জানালা দরজা সব গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই চেয়ারম্যান পরিষদের জায়গায় ছোট-বড় প্রায় অর্ধশত জীবন্ত গাছ বিক্রি করে সে টাকাও নিজের পকেটে ভরেন এবং পরিষদের ও বাজারের রাস্তার প্রায় ১০ হাজার ইট তুলে নিজের বাড়ির নির্মাণ কাজে লাগিয়েছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি ওইসব সম্পদ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেই তা তছরুপ করেছেন বলেও জানা গেছে । এতে সরকারি কোনো নিয়ম মানা হয়নি, আমলে নেওয়া হয়নি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনাও। যে স্থানে পরিষদের ভবন ছিল তা এখন নদের গর্ভে। ওইসব অভিযোগ করা হয়েছে রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনুর বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান জানান, ওই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের কবলে পড়লে তা রক্ষার জন্য ভবনটি দুই লাখ টাকা সরকারি মূল্য ধরে নিলামে বিক্রির জন্য সকল উদ্যোগ নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে পরিষদের জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছের দাম ৩ লাখ টাকা নির্ধাণ করে নিলামে বিক্রির কথাও বলা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান নিলামে বিক্রির কোনো আয়োজন না করে এবং উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে নিজের উদ্যোগে পরিষদ ভবন ভেঙ্গে ফেলে। ভবনের যাবতীয় সরঞ্জামাদী ও সরকারি জায়গার সরকারি গাছগুলো গোপনে বিক্রি করে সমূদয় অর্থ আত্মসাৎ করে। তাকে বারবার সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো পাত্তা দেননি তিনি। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদের ও নয়াচর বাজারের প্রায় ৩ হাজার ফুট ইটের রাস্তার ইট তুলে তা দিয়ে নিজের বাড়িতে দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজে লাগান। চেয়ারম্যানের ওই অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি গত আগষ্ট মাসে উপজেলা মাসিক সভায় কার্যতালিকাতে উঠানো হয়। এ ছাড়াও সরকারি সম্পদ তছরুপ করার অভিযোগে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে দেখা গেছে, নদী ভাঙ্গনের অজুহাতে জুলাই মাসে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়। একই সময়ে পরিষদের জায়গায় সরকারি গাছগুলোও কেটে ফেলা হয়। অথচ এর আড়াই মাস পর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে বিলীন হয় ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা ও ইট বিছানো রাস্তা। ভাঙ্গনে নয়াচর বাজারের অর্ধেক অংশ নদের গর্ভে হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, চেয়ারম্যান সরকারি কোনো নিয়ম মানেননি। প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ সে আত্মসাৎ করেছে। এজন্য এলাকাবাসি তার ওপর ক্ষুদ্ধ। বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিৎ।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, অভিযোগগুলো সব মিথ্যা ভাই। আমার ইউনিয়ন পরিষদের টাকা পরিষদের একাউন্টে জমা করেছি। পরিষদের জমি কিনতে টাকা লাগবে তখন কে দিবে? তাছাড়া ভবন ভেঙ্গে ফেলা ও গাছ কাটা সব করা হয়েছে ইউএনও স্যারের মতামত নিয়েই।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম সহকারি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হোরায়রা সরেজমিনে তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সহকারি জেলা প্রশাসক অভিযোগকারী, এলাকাবাসি ও অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণ করেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে আবু হোরায়রা সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।